হাসির ধাঁধা উত্তর সহ

হাসির ধাঁধা উত্তর সহ | দেখুন রোমান্টিক ধাঁধা ২০২৬

দুষ্টামির অন্যতম মাধ্যম ধাঁধা। বন্ধুদের অথবা ফ্যামিলির আড্ডায় হাসি জমানোর অন্যতম রসদ মজার মজার ধাঁধা। বিয়ে বাড়িতে বর ও কণে পক্ষের লোকজনের মধ্যে বুদ্ধি পরীক্ষার জন্য ধাঁধার ব্যবহার করা হয়। এই লেখাটিতে আমরা সেরা কিছু হাসির ধাঁধা উত্তর সহ উল্লেখ করার চেষ্টা করেছি।

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে আমরা কাজের পাশাপাশি অবসর সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্ধুদের সাথে আড্ডায় মেতে উঠি। বিভিন্ন মেসেঞ্জার অথবা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অনেক বন্ধুরা একসাথে আড্ডা জমাই।

এই সকল আড্ডায় নিজেকে বুদ্ধিমান ও স্মার্ট পরিচয় দিতে আপনার বন্ধুদের সাথে “ধাঁধা-উত্তর” খেলতে পারেন। ভাবছেন এত মজার মজার ধাঁধা কোথায় পাবেন? চিন্তা নেই, এই লেখাটি মনোযোগ দিয়ে সম্পূর্ণ দেখলে সেরা কিছু হাসির ধাঁধা উত্তর এবং ব্যাখ্যা সহ পেয়ে যাবেন।

হাসির ধাঁধা উত্তর সহ

ভিডিও গেমসের যুগে একসাথে বসে সকল আত্মীয়-স্বজন কিংবা বন্ধুরা মিলে ধাঁধা খেলার সময়টা অতীত হয়ে গিয়েছে। তবে আমরা যদি আমাদের জীবনের সোনালী মুহূর্তগুলোর কথা চিন্তা করি তাহলে একসাথে স্কুলের বেঞ্চে বসে অথবা মাদুর পেতে বাড়ির উঠানে বসে ধাবা খেলার মুহূর্ত ভেসে উঠবে।

আপনার সোনালী অতীতের সাথে মেলবন্ধন করার লক্ষে EduNewsBD এর আজকের লেখাটিতে মজার মজার কিছু ধাঁধা উত্তর সহ বর্ণনা করার চেষ্টা করেছি। তো চলুন শুরু করি……

১. জিনিসটা ঠান্ডা কিন্তু তা সব সময় ফুঁ দিয়েই খেতে হয়?

উত্তরঃ বাদাম।

ব্যাখ্যাঃ বাদাম সবসময় ঠান্ডা থাকে। কিন্তু এটি খাবার সময় খোসা সোলানোর জন্য ফুঁ দিয়ে বাদামের উপরে থাকা খোসা সরিয়ে খেতে হয়।

২. পুলিশের সামনে বসেই একজন লোক প্রকাশ্য হ ত্যা করার পরেও পুলিশ তাকে কোন কিছু বলেনি কেন?

উত্তরঃ কারণ লোকটি কোন মানুষকে হত্যা করেনি। লোকটি হত্যা করেছে মশা।

ব্যাখ্যাঃ যেহেতু আমাদের দেশে আইনে মশা হত্যাকারীর কোন ধরনের শাস্তি নেই তাই লোকটি পুলিশের সামনে বসেই প্রকাশ্যে হত্যা করার পরেও পুলিশ তাকে কিছু বলেনি।

৩. কোন জিনিসটা সবসময় সামনে থাকে কিন্তু দেখা যায় না?

উত্তরঃ আমাদের ভবিষ্যৎ।

ব্যাখ্যাঃ আমাদের ভবিষ্যৎ সবসময়ই থাকে কিন্তু এটিকে কখনোই দেখা যায় না। আমরা যেই সময়টা পার করছি এইটা বর্তমান। কিন্তু পরবর্তীতে যেই সময়টা আসতেছে ওইটাই ভবিষ্যৎ। আমরা জানি এটা নির্ধারিত ভবিষ্যৎ আসবেই, কিন্তু তারপরেও এটিকে দেখতে পাই না।

৪. আমি পাগলের মত ঘুরি কিন্তু হারিয়ে যাই না. আসলে আমি কে?

উত্তরঃ আমি ফ্যান।

ব্যাখ্যাঃ ফ্যান বা ইলেকট্রিক পাখা। যা বৈদ্যুতিক সংযোগ থাকলে ঘুরতে থাকে কিন্তু কোথাও হারিয়ে যায় না।

৫. পেট আছে, মাথা নেই, হেঁটে চলে না, কিন্তু সারাক্ষণই ঘুরতে থাকে – কি সেই জিনিস?

উত্তরঃ আমাদের ব্যাগ।

ব্যাখ্যাঃ ব্যাগের পেট আছে, যেখানে আমরা মালামাল সামগ্রী অথবা কাগজপত্র বহন করি। কিন্তু এর মাথা নেই এবং পা ও নেই। ব্যাগ চাইলে নিজে নিজে হেঁটে যেতে পারে না। তবে আমাদের প্রয়োজনে এটিকে সারাক্ষণ সাথে নিয়েই ঘুরতে থাকি।

৬. পানিতে ডুবে না, আগুনে পোড়ে না কি সেই জিনিস?

উত্তরঃ ছায়া।

ব্যাখ্যাঃ আমাদের ছায়া সারাক্ষণ আমাদের সাথে হেঁটে বেড়ায় কিন্তু এটি পানিতে ডুবে না এবং আগুনেও পুড়ে না।

৭. এমন কী জিনিস, যা খাওয়ার আগে ভাঙতে হয়?

উত্তরঃ ডিম।

ব্যাখ্যাঃ ডিম খাবার পূর্বে রান্না করার জন্য এটিকে ভেঙে খোসা থেকে আলাদা করতে হয়।

৮. দুই হাত আছে তার আরো আছে মুখ, পা ছাড়াও জিনিসটার মনে বড় সুখ। বলো তো জিনিসটা কী?

উত্তরঃ ঘড়ি।

ব্যাখ্যাঃ ঘড়ির দুই পাশে দুটি বেল্ট রয়েছে যা হাতের সাথে তুলনা করা হয়েছে। এবং ঘড়ির আলো রয়েছে একটি ডিসপ্লে, যেটা মুখের সাথে তুলনা করা হয়েছে। ঘড়ির কোন পা নেই কিন্তু তার মনে বড় সুখ। কেননা সে সারাক্ষণ মানুষের হাতে চড়ে দেশ বিদেশে ঘুরে বেড়ায়।

৯. তোমার নিজস্ব জিনিস কিন্তু তোমার থেকেও বেশি ব্যবহার করে আশেপাশের মানুষ। বলতো সেটা কি জিনিস?

উত্তরঃ তোমার নাম।

ব্যাখ্যাঃ নিজেদের নাম নিজেদের থেকেও আশেপাশের মানুষ বেশি উচ্চারণ করে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তাইতো এই জিনিসটা আমার হওয়া সত্ত্বেও আশেপাশের মানুষ বেশি ব্যবহার করে।

১০. এক ব্যক্তি দিনে কয়েকবার দাড়ি ও গোঁফ কাটেন। তারপরেও উনার দাড়ি-গোঁফ কাটা শেষ হয় না?

উত্তরঃ এই ব্যক্তি আসলে নাপিত।

ব্যাখ্যাঃ নাপিতের দোকানে তথা সেলুনে নাপিত সারাক্ষণই কাস্টমারদের দাড়ি ও গোঁফ কেটে দেন। তাই কখনোই তার দাড়ি-গোঁফ কাটা শেষ হয় না।

চিন্তার ধাঁধা উত্তর সহ

১১. কোন জিনিসটা যতই ধোয়া হয়, ততই ময়লা হয়?

উত্তরঃ পানি।

ব্যাখ্যাঃ পানি দিয়ে সবকিছু ধুয়ে পরিষ্কার করা গেলেও পানি দিয়ে পানি পরিষ্কার করা সম্ভব নয়। এবং ময়লা কোন বস্তু পানি দিয়ে ধৌত করলে পানি আরো ময়লা হয়।

১২. জিনিসটার এমন গুণ, টাকা করে দ্বিগুণ।

উত্তরঃ আয়নার সামনে গিয়ে টাকা ধরুন।

ব্যাখ্যাঃ আপনি যদি টাকা নিয়ে আয়নার সামনে যান সে ক্ষেত্রে ওই টাকার প্রতিছবি দেখাবে। ৫০০ টাকা নিয়ে আয়নার সামনে গেলে আয়নার মধ্যে আরো ৫০০ টাকা দেখাবে। আপনার টাকা দ্বিগুণ হয়ে যাবে।

১৩. গায়ে জামা নেই, তবুও আবরণে ঢাকা – বলুনতো জিনিসটা কি?

উত্তরঃ কমলা।

ব্যাখ্যাঃ কমলা অথবা ফল এর গায়ে কোন জামা নেই তবুও আবরণে ঢাকা থাকে।

১৪. কোন‌ টাইম কখনো চলে না?

উত্তরঃ টাইম ফুল।

ব্যাখ্যাঃ আমরা জানি টাইম বা সময় চলমান। কিন্তু “টাইম” নামে এক ধরনের ফুল রয়েছে যা চলমান নয়। এই ধাঁধায় ওই টাইম ফুলকে বোঝানো হয়েছে।

১৫. হাজার বছরের বৃদ্ধ হয়েও আমাদের থেকে উজ্জ্বল তার চেহারা। বলতো জিনিসটা কি?

উত্তরঃ চাঁদ।

ব্যাখ্যাঃ চাঁদের বয়স লক্ষ্য হাজার বছর হলেও তার রূপ চেহারা আমাদের থেকে উজ্জ্বল। সে তার রূপ দিয়ে সে আলোকিত করে অন্যকেও।

১৬. মেয়েরা কোন জিনিসকে দুই ইঞ্চি থেকে ছয় ইঞ্চি করতে পারে?

উত্তরঃ রুটি।

ব্যাখ্যাঃ আটা বা ময়দা দিয়ে রুটি বানানোর সময় এটি গোল বলের মত করা হয় যেটা সর্বোচ্চ ২ ইঞ্চি হতে পারে। কিন্তু এরপরে এটিকে প্রসেসিং এর মাধ্যমে বেলে বড় করা হয়, যেটা ৬ ইঞ্চি বা তার বড় হতে পারে।

১৭. কোন জিনিসটা সবসময় বাড়ে কিন্তু কখনো কমে না?

উত্তরঃ আমাদের বয়স।

ব্যাখ্যাঃ আমাদের বয়স সব সময়ই বাড়ে কিন্তু কখনোই কমেনা। যেমন ১০ থেকে ১১ হয় কিন্তু কখনো ১১ থেকে ১০ হয় না।

১৮. কোন জিনিসটি শুকনা থাকলে হার্ড, কিন্তু ভেজালে নরম ও তুলতুলে হয়?

উত্তরঃ সাবান।

ব্যাখ্যাঃ সাবান শুকনো অবস্থায় প্রচন্ড শক্ত থাকে কিন্তু পানির মধ্যে ভিজিয়ে রাখলে নরম হয়ে যায়।

১৯. কোন জিনিস খাবার জন্য টাকা দিয়ে ক্রয় করি, কিন্তু না খেয়ে ফেলে দেই?

উত্তরঃ তেজপাতা ও এলাচি।

ব্যাখ্যাঃ তরকারির স্বাদ বাড়ানোর জন্য টাকা দিয়ে তেজপাতা ও এলাচি (মসলা) ক্রয় করি কিন্তু খাবার সময় এগুলো না খেয়ে ফেলে দেই।

২০. ক্রিকেটে এক ওভারে কয়টি বল খেলে?

উত্তরঃ ১টি।

ব্যাখ্যাঃ আমরা জানি এক ওভারে বলার টোটাল ৬ বার ব্যাটসম্যানের দিকে বল ছুড়ে মারে। কিন্তু এই কার্যক্রমটি সাধারণত ১ টি বল দিয়েই করা হয়।

আরও: বন্ধুত্ব নিয়ে ক্যাপশন

২১. কোন দেশে পুরুষ মানুষ নেই?

উত্তরঃ সন্দেশ। 

ব্যাখ্যাঃ সন্দেশ মূলত একটি মিষ্টান্ন জাতীয় খাবারের নাম। এর মধ্যে কোন মানুষ থাকা সম্ভব নয়।

২২. এমন কি জিনিস, যে কিনে সে খায় না কিন্তু যে খায় সে কিনে না?

উত্তরঃ গরুর খাবার।

ব্যাখ্যাঃ গরুর খাবার মানুষ কিনে কিন্তু মানুষ খায় না। গরু এই খাবার খায় কিন্তু সে কিনতে পারে না।

২৩. ধরে রাখলে বিপদ আবার ছেড়ে দিলেও বিপদ। – কি সেই জিনিস?

উত্তরঃ আমাদের নিঃশ্বাস।

ব্যাখ্যাঃ নিঃশ্বাস অনেক সময় ধরে রাখলে বিপদ। আবার একেবারে ছেড়ে দেওয়া মানে মৃত্যুবরণ।

২৪. এমন কোন জিনিস মেয়েরা স্বামীর সামনে পড়তে পারে না?

উত্তরঃ বিধবা শাড়ি।

ব্যাখ্যাঃ মেয়েরা বিধবা শাড়ি পরে স্বামীর মৃত্যু বরণের পরে। তাই স্বামী জীবিত থাকা অবস্থায় তার সামনে বিধবা শাড়ি পড়তে পারে না।

হাসির ধাঁধা উত্তর সহ রোমান্টিক

২৫. এমন কী জিনিস, যা প্রেমে পড়লে বাড়ে, কিন্তু দেখা যায় না?

উত্তরঃ ভালোবাসা।

ব্যাখ্যাঃ ভালোবাসা শুধুমাত্র প্রেমে পড়লে বাড়ে কিন্তু তা চোখে দেখা যায় না।

২৬. এমন কী জিনিস, যা তুমি আমাকে দিলে আমি খুশি, না দিলে প্রচন্ড রাগ করি?

উত্তরঃ মনোযোগ।

ব্যাখ্যাঃ প্রেমিক প্রেমিকা বা স্বামী-স্ত্রী একজনের প্রতি অন্যজনার মনোযোগ থাকলে খুশি মনোযোগ না থাকলে প্রচন্ড রাগ।

২৭. এমন কী জিনিস, যা তুমি চুরি করো, কিন্তু ধরা পড়লেও শাস্তি হয় না?

উত্তরঃ হৃদয়।

ব্যাখ্যাঃ ভালোবাসার সম্পর্কের মধ্যে একজন অন্যজনার হৃদয়ে চুরি করে কিন্তু ধরা পড়লেও কোন শাস্তি হয় না।

২৮. কোন জিনিসটা প্রেমিক প্রেমিকার মাঝে থাকে, কিন্তু ধরতে পারে না কেউ?

উত্তরঃ ভালোবাসার অনুভূতি।

ব্যাখ্যাঃ ভালোবাসার অনুভূতি প্রেমিক প্রেমিকা দুজনার মধ্যেই থাকে কিন্তু কেউই ধরতে পারেনা।

২৯. এমন কী জিনিস, যা কাছে আসলেই হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়?

উত্তরঃ তুমি (প্রেমিক অথবা প্রেমিকা)

ব্যাখ্যাঃ এখানে মূলত প্রেমিক অথবা প্রেমিকা ভালবাসার অনুভূতি বোঝানো হয়েছে।

৩০. এমন কী জিনিস, যা তোমার কাছে গেলে নিজে থেকেই গরম হয়ে যায়?

উত্তরঃ আমার হৃদয়।

ব্যাখ্যাঃ প্রেমিক অথবা প্রেমিকা ভালবাসার অনুভূতি বোঝানো হয়েছে।

শেষকথা

প্রিয় পাঠক, আপনাদের সময়কে আরো দুষ্টু মিষ্টি করতে এই ধাঁধাগুলো খুবই কার্যকরী হবে। আপনাদের কাছে এই ধাঁধা গুলি কেমন লেগেছে অবশ্যই কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন। যদি ভালো লাগে আপনার বন্ধুদের কাছে হাসির ধাঁধা উত্তর সহ লেখাটি শেয়ার করতে পারেন।

এবং পরবর্তীতে আমাদের থেকে আর কি ধরনের ধাঁধা এবং তার উত্তর জানতে চান কমেন্ট করে তা জানাতে পারেন। এত সময় ধরে আমাদের লেখাটি দেখার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।

মেহেদী হাসান
মেহেদী হাসান

আমি একজন প্রফেশনাল এসইও এক্সপার্ট এবং ব্লগার। বর্তমানে মাস্টার্স এ পড়াশোনা করছি। এই ওয়েবসাইটে বাংলাদেশের পড়াশোনার বিষয়ে নিয়মিত আপডেট খবরাখবর প্রকাশ করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *